সন্তানকে কোরআন শুনান

১৮ সপ্তাহ হলেই গর্ভের সন্তান শুনতে শুরু করে। ২৪ সপ্তাহ হলে তার কানের কর্মক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তখন সে তার মা’কে স্পষ্ট শুনতে পায়। ২৫-২৬ সপ্তাহ হলে সাড়া দেয়া শুরু করে। মা ‘সোনামণি’ বলে ডাক দিলে হয়ত সে এদিকওদিক তাকায়।সুতরাং বোনেরা সাবধান! গুণগুণ করে গানের কলি গাইতে যাবেন না। গীবত, তোহমৎ এবং মিথ্যা বলা একদম ছেড়ে দিন। ডিস লাইনটা কেটে দেয়া যায় না? অনৈসলামিক কথা যেন মুখে উচ্চারিত না হয়। আর ঝগড়া? কখনোই না। সবরে থাকবেন অবিচল। মনে রাখবেন, পেটে কিন্তু কান পেতে আছে আপনারই সন্তান। তাঁর ফিতরাত ঝগড়াতে অভ্যস্ত নয়। আপনার থেকে ভালো কিছু শোনার আশায় কান খাড়া করে আছে বাড়ন্ত সোনামণিটি। সন্তান গর্ভে আসার পরপরই মূল প্যারেন্টিং শুরু হয়। মা’কে থাকতে হয় সদা সতর্ক। অথচ আমরা বাচ্চা ভূমিষ্ঠের পরই পরিচর্যা শুরু করি। আর এ কারণেই হয়তোবা সোনার মতো সন্তান পাচ্ছি না। ভালো ফসল পেতে হলে বীজতলায় বীজ রোপণ করার পর থেকেই দেখভাল শুরু করতে হয়।সবসময় জিকিরে থাকার চেষ্টা করুন। মারিয়াম আ.-য়ের মা যে দুয়াটি করতেন সেই একই দুয়া আপনিও করতে থাকুন। رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ৩৫)কুরআনের সাথে একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে তুলুন। অবসরটা কুরআন পাঠ করে কাটান। পেটে আলতো করে ম্যাসেজ করুন আর উত্তম কথামালা আওড়াতে থাকুন। শিক্ষণীয় কোন ঘটনা বলুন বা শুনুন। সারাক্ষণ নসীহা দিতে থাকুন। আগত সন্তানের জন্য তো দুয়া করতেই হবে। জানেনই তো, সন্তানের জন্য মা-বাবার কৃত দুয়া আল্লাহ কবুল করেন।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *