আমি কিছুদিন আগে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম যে মানুষ ফরজ ছেড়ে নফল/মুস্তাহাব এর পেছনে দৌড়াচ্ছে।

আমি কিছুদিন আগে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম যে মানুষ ফরজ ছেড়ে নফল/মুস্তাহাব এর পেছনে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু এই পোষ্টের কারনে আমার কেনো জানি মনে হয় মানুষ এর দ্বারা ভুল কিছু বুঝেছে তাই এই ব্যাপারে বিস্তারিত না হলেও অল্প কিছু কথা বলা প্রয়োজন। দেখুন কেউ ফরজ কাজ সুন্নত ছাড়া করতে পারবে না। কারণ রাসূল (সাঃ) এর কর্ম কেই সুন্নত বলা হয়(সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা) আর রাসূল ফরজ আমল করেননি এমন ফরজ আছে কি না আমার জানা নেই। ইসলামে আমল দুই ধরনের ১. ফরজ ২. নফল। ফরজের ভিতরে আছে ওয়াজিব, ফরজে কিফায়া, ফরজে আইন ইত্যাদি। আবার নফল অর্থাৎ ফরজের অতিরিক্ত আছে সুন্নত, মুস্তাহাব সুন্নাহ, গায়েরে মুস্তাহাব সুন্নত, নফল ইত্যাদি। এসব বলা আমার মূল উদ্দেশ্য না, আমরা যা বলতে চাই তা হলো আপনি যদি জান্নাতে যেতে চান তাহলে আপনাকে সুন্নত অবশ্যই ফলো করতে হবে কারণ ফরজ নামাজও রাসূল (সাঃ) যেভাবে আদায় করেছেন সেভাবে আদায় করলে সেটি একই সাথে ফরজ এবং সুন্নত। আমি এখানে ফিকহি আলোচনা করছি না শুধু সাধারনের বুঝার মতো করে বলার চেষ্টা করছি। তাই এসবের মাঝে শারয়ী সংজ্ঞা দিয়ে আবার কেউ ভুল খুজবেন না। রাসূল (সাঃ) এর সাহাবীরা এভাবে ইবাদত করতেন না। তারা ইবাদত করতেন দুই ভাবে এক. আল্লাহর আদেশ। দুই. রাসূল (সাঃ) করেছেন বা বলেছেন। আপনাকে এক সাহাবীর রাসূলের অনুসরণের নমুনা দেই, এক সাহাবী (রাঃ) একদিন খাবারে রাসূল (সাঃ) থেকে শোনলেন রাসূল (সাঃ) লাউ খেতে পছন্দ করেন। ব্যাস! সেই দিন থেকে এই সাহাবীও লাও খাওয়া পছন্দ করে নিলেন! আরেক সাহাবী নিজের জামার কাপড় এর দুই হাতা ধরে কেঁচিতে কেটে ফেললেন! জিজ্ঞাসা করা হলো এমন কেনো করেছেন বললেন রাসূল (সাঃ) এর জামার হাতা আমি এমন শীলি বিহিন দেখেছি আর অসমান দেখেছি তাই আমিও এভাবেই কাপড় রাখতে পছন্দ করি। আরেক সাহাবী (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে একবার কাপড়ের মাঝের বোতাম হোলা অবস্থায় দেখলেন, উনিও নিজের কাপর সব সময় এভাবে পড়া শুরু করে দিলেন(উনি সম্ভবত বেশি সময় রাসূল (সাঃ) এর কাছে ছিলেন না।) । তো এগুলো ছিলো তাদের রাসূল (সাঃ) কে অনুসরণের উদাহরণ। তাদের আমলও অনুরপ ছিলো, হাদিসে পাবেন , “আমি রাসূল সাঃ কে এমন করতে দেখেছি, পরতে দেখেছি” ইত্যাদি। তো আপনি সুন্নত ছাড়া ফরজ পালন করতে পারবেন না। আমাদের ঐদিনে লেখার উদ্দেশ্য ছিলো মানুষ যেনো সুন্নতের পাশাপাশি ফরজ আমলেও বেশি গুরুত্ব দেয়। শবে কদর এর সারা রাত নফল সালাত আদায় করার সাথে সাথে ঐদিনে যেনো ৫ ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে, মা-বাবা-স্ত্রী-বোনের হক্কও আদায় করে। প্রতিবেশির সাথেও ভালো ব্যবহার করে, আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে ইত্যাদি আরো বিষয়াদিও করে। আমাদের লেখার উদ্দেশ্য এটা ছিলো না সে যে ফরজ আদায় করবে শুধু আর সুন্নত বা নফল আদায় করবে না। এটা তো চরম বোকামি কারণ কে এমন বোকা আছে যে সওয়াব আদায় মিস করতে চায়! আল ইয়াজুবিল্লাহ! তাই আমাদেরকে ফরজ অবশ্যই আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সুন্নত, নফল ইবাদতও বেশি বেশি করতে হবে। ৫ ওয়াক্ত সালাতের সবগুলো সুন্নত সালাতও আদায় করার চেষ্টা করতে হবে, নফলও আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। হ্যাঁ একদিনে সম্ভব না নফল ইবাদত সব করা তাই আস্তে আস্তে চেষ্টা চালু রাখতে হবে। কিয়ামুল লাইল(তাহাজ্জুদ) পড়ার অভ্যাস অবশ্যই(অনুরোধ, আদেশ না) করতে হবে। যে যে সুন্নত-নফল আমল আপনি করছেন তা চালু রেখেই যে ফরজ ছুটে যা তা আদায় করতে হবে। আর ফরজ তো আদায় করতেই হবে। একটি ফরজ ইবাদত বাদ দেয়াই জাহান্নামে যাওয়ার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়, ফরজ ছাড়া তো কবিরাহ গোনাহ আর কতক ফরজ অস্বীকার কারী তো মুরতাদের পরিণত হয় অর্থাৎ ঈমান ভেঙ্গে যায়। আল্লাহ আমাদের সকল কে ফিতনা থেকে হেফাজত করুণ। শেষ অনুরোধ, ফিতনা থেকে আবু বকর রাঃ এর মতো হয়ে যান, যখন আবু বকরকে বলা হলো রাসূল (সাঃ) এর মেরাজ সম্পর্কে তখন তিনি যেমন এক বাক্যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন আপনিও তেমন হয়ে যান। আপনার চোখ-আপনার কান-আপনার মস্তিস্ক যা ইচ্ছা দেখুক, শোনুক, চিন্তা করুক। আপনি বলুন আমি সাক্ষ্য দেই তিনি(সাঃ) যা বলেছেন সত্য বলেছেন। এর বাইরে যা আছে তা সব মিথ্যা, বাতিল, ভ্রান্ত।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *