যেসব সেকুলাঙ্গাররা আজকে ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে দেখতে বলছে, ফ্রান্সের প্রোডাক্ট বয়কট করে কী হবে বলে বেড়াচ্ছে

যেসব সেকুলাঙ্গাররা আজকে ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে দেখতে বলছে, ফ্রান্সের প্রোডাক্ট বয়কট করে কী হবে বলে বেড়াচ্ছে, ওদের কথা ছুঁড়ে ফেলে দিন। রাসূল ﷺ-এর অবমাননার পরও ঘুরেফিরে ফ্রান্সের পক্ষে যে ওদের সমস্ত কথা, সমস্ত যুক্তি… একটা প্রপাগান্ডার মতো চলছে, সেইসবের যাবতীয় কাউন্টার দেওয়ার আগে ওদেরকেই চিনতে পারছেন কিনা দেখুন। অনেকে ভুলে গেলেও যেসব সেকুলাঙ্গাররা আজকে ফ্রান্সের পক্ষে মানবতার বয়ান দিয়ে বেড়াচ্ছে, ওদের মুখোশের নিচের আসল চেহারা তো আমরা ভুলে যাই নি।
.
সহজে বুঝুন। এখনকার এইসব কুলাঙ্গারদের মোটাদাগে দুই ভাগে বিভক্ত। এক. পুরোনো শাহবাগী ঘরানার কুলাঙ্গার আর দুই. নতুন জাহিল যারা পরে এসে ওদের দাওয়াত কবুল করেছে (স্বেচ্ছায়) কিংবা ওদের প্রপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়েছে (অনিচ্ছায়)। যেভাবেই ধরা হোক, ফলাফল একই। মোটাদাগে এই দুই শ্রেণিকেই ইসলাম বনাম কুফরের সংঘাতে কুফরের পক্ষে ‘ইনিয়ে বিনিয়ে’ প্রপাগান্ডা ছড়াতে দেখা যাচ্ছে। এর বাইরের যেগুলো রয়েছে, যেমন: ভারতের কিংবা এখানকার মালাউন, এদেরকে সরাসরিই পক্ষপাতিত্ব করতে দেখবেন; ইনিয়ে বিনিয়ে নয়। অথচ ওদের কার্যকলাপ আমরা ভুলে গিয়ে না থাকলে এখন ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার সুযোগ আর ওদের থাকতো না।
.
স্মরণ করিয়ে দিই। ওরা হলো সেইসব চরমপন্থী সেক্যুলার, যারা একসময় শাহবাগে গিয়ে “একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” স্লোগান তুলেছিল। ওরা হলো সেইসব নাস্তিক্যবাদী কুলাঙ্গার, যারা রাজাকারদের বিচার চাইতে গিয়ে “এখন যদি আল্লাহও নেমে আসে, তাহলে তারও ফাঁসি দিয়ে দিব” (আল-ইয়াযুবিল্লাহ) ধরনের কথাবার্তা বলে বেড়িয়েছিল। হ্যাঁ, আজকে ফ্রান্সের পক্ষ নেওয়া প্রপাগান্ডিস্টগুলো ওই শাহবাগী শাতিম গোষ্ঠীটারই ঘষামাজা রূপ। এটাও ঠিক যে, চূড়ান্ত জাহিলদের অনেক নির্বোধও ফ্রান্সের পক্ষে কয়ে-লিখে একটু ক্রিটিকাল থিংকার হওয়ার ভং ধরছে। কিন্তু দিনশেষে এইশ্রেণিও ওই শাহবাগী ফ্যাসিস্টদের মতো মুসলিম বনাম শাতিমদের দ্বন্দ্বে ঘুরেফিরে শাতিমদের পক্ষই নিয়েছে।
.
কেননা এখন ঈমান আর কুফর আলাদা হয়ে যাচ্ছে। যার যার প্রায়োরিটি আর ওয়ালা-বারা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। যেসব ননপ্র্যাক্টিসিং ভাইবোনদের অন্তরে সামান্য হলেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালবাসা বিদ্যমান ছিল, তারাও বিশ্বব্যাপী এই বয়কটে অংশ নিচ্ছেন মাশাআল্লাহ। যারা ডাক্তার, তারা ফ্রান্সের ওষুধপাতি বয়কট করে আল্লাহর রাসূলের প্রতি ভালবাসা জানিয়ে দিচ্ছেন, যারা ইঞ্জিনিয়ার তারা অংশ নিচ্ছেন, যারা হ্যাকিং পারেন, তারা সাধ্যমতো ফ্রান্সে সাইবার হামলা করছেন। মোটকথা দল-মত-শ্রেণি-পেশি নির্বিশেষে সবাই যার যার প্রায়োরিটি স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। এভাবেই ঈমান আর কুফর আলাদা অবস্থান গ্রহণ করেছে। সত্য হলো এমন দৃশ্যপট ইতিহাসেও বিরল।
.
তাহলে এমনই এক সময়ে ননপ্র্যাক্টিসিংদের যারা ইনিয়ে বিনিয়ে ফ্রান্সের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন, ওদের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে বলছেন, তাদের অবস্থান কাদের সাথে গিয়ে মিলছে? তাই এদের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ করা ও প্রশ্ন তোলাও জায়িজ ও বাঞ্চনীয়। বাইরে বাইরে এরা হলো ওইসব ফ্যাসিস্ট শাহবাগীদের একটু সফট ভার্সন, কিন্তু সুযোগ পেলে এদের থেকেও ইসলামবিদ্বেষ প্রকাশ পাওয়া স্রেফ সময়ের ব্যাপার। আমেরিকা, ফ্রান্স এসব সাদা চামড়াদেরকে এরা বুঝে না বুঝে আদর্শ মানে। এদের সবকিছুতেই ওইসব সাদা চামড়ার ডিকশনারিতে সভ্য হওয়ার একটা ভাব দেখা যায়। আর পুরো ব্যাপারটাতে একটা নিজস্বতা দিতে এরা বাঙ্গালিয়ানার দুয়েক সবক লেপ্টে রাখে। কিন্তু আদর্শিক সমীকরণ মেলাতে গেলে এদেরকে ওই সাদা ফিরিঙ্গিদের বাদামি দাস হিসেবেই প্রমাণ পাওয়া যায়। বারবার।
.
তাই ঈমান আর কুফরের এই সংঘাতকালীন সময়ে ওইসব মানবশয়তানদের ওয়াসওয়াসা থেকে সতর্ক থাকুন। ওদের সমস্ত প্রলাপ ছুঁড়ে ফেলুন। কিন্তু ওদের পরিচয়টা ভুলে যাবেন না। বরং ওদেরকে চিনে রাখুন, চিহ্নিত করে রাখুন। ভবিষ্যতে অনেক সমীকরণ মেলাতে সহজ হবে।
.
আর যারা নন-প্র্যাক্টিসিং হয়েও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে চলেছেন, তারা পুরোপুরি ঘরে ফিরেই আসুন না! আপনাদের এই পরিবার, এই উম্মাহর কাছ থেকে ভালবাসার অভাব হবে না ইনশাআল্লাহ।

তানভীর আহমেদ থেকে সংগৃহীত

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *