আয়নার সামনে পর্ব ৪

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সকল প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহ তা’আলার।শান্তি ও কল্যান বর্ষিত হোক প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তার পরিবার পরিজনের উপর।

____________________________________________

বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, এই লিখাটা লিখার সময় আমার বুকটা দুরু দুরু করছে।কারন আমি যা লিখব অনেকের কাছেই খটকা লাগবে।মানতে চাইবেননা।মানলেও তা করতে চাইবেননা।করতে চাইলেও আমাদের ঠুনকো ego বাধ সাধবে।এই ইগো আমাদের সেকুলার সমাজ ব্যবস্থার তৈরি যেখানে একজন মেয়েকে পুরুষের প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়,সেখানো হয় ক্যারিয়ারই সব,তাকে আয় উপার্জন করতে হবে,বিয়ে শাদি অনেক পরের ব্যপার,বিয়ের সময় ছেলের সামাজিক অবস্থানই মূখ্য বিবেচ্য বিষয়,দেন মোহরানা হবে আকাশচুম্বী,সন্তান পালন একটা ঝামেলা,স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নেয়া যাবে না, পুরুষ ও নারী সমান ও প্রতিসম ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই।

আমার এই লিখাটা শহুরে নারীদের জন্য যারা কলেজ বা university তে পড়ছেন অথবা চাকরি করছেন।

হ্যাঁ।এই আমরা মেয়েরা যারা নারী অধিকার নিয়ে এত মাতামাতি করেছি যে ভুলেই গেছি পুরুষের অধিকার বলেও কিছু থাকতে পারে।নিজের আলাদা সত্তা আবিষ্কার করতে করতে ভুলেই গেছি যে আমাদের একজন কর্তা আছেন/হবেন (আমাদের সব রকম প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব যার ঘাড়ে।হোক সেটা শারীরিক,মানসিক,আর্থিক বা অন্য কিছু।আমি যদি রানী হই আর সে যদি হয় ভিখারি তবুও সে আমার কাছে একটা পয়সাও চাইতে পারবেনা উপরন্তু তাকে আমার সব রকম প্রয়োজন মেটাতে হবে।তাকে আমার সাথে সর্বদা ভাল আচরণ করতে হবে।আমাকে যদি তার ভালও না লাগে তবুও আমার অন্য কোন ব্যাপার নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। সে আমাকে কাজের জন্য চাপ দিতে পারবেনা।সংসার না চললেও আমাকে বাইরে কাজ করতে বলার তার অধিকার নেই।আর সে কখনই সর্বোত্তম হতে পারবেনা যদি সে আমার কাছে ভাল না হয়।আমার নৈতিক অবক্ষয় দেখলেও আমাকে সে একেবারে তালাক দিতে পারবেনা।প্রথমে বুঝিয়ে,তা না হলে বিছানা আলাদা করে,তা না হলে সাবধান করতে একটা মেসওয়াক এর আঘাত দিয়ে ,আর তাতেও না হলে অবশেষে তালাক দিবে।কিন্তু আমাকে রাগ করে বাড়ি থেকে চলে যেতেও বলতে পারবেনা যেখানে আমার চাওয়া মাত্র তালাক প্রাপ্তির বিধান রয়েছে। ),সন্তান আছে/হবে(কাজের বুয়ার কাছে রেখে গেলেই যার প্রতি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।)।

কিয়ামতের অনেক গুলো লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হল মানুষ সন্তান সন্ততিকে বিরক্ত মনে করবে।আমাদের কাছেও আমাদের সন্তানেরা আজকাল এমনি হয়ে গেছে।আমরা বিয়ের পর ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর দিকে ঝুঁকে পড়ছি।এখনি বাচ্চা নয়।লাইফ তো enjoy করা শেষই হয়নি।আবার অনেকেই গর্ভপাতের মত জঘন্য কাজও করছি।কম বেশি যুক্তি একটাই-“এখন বাচ্চার জন্য prepared না।”

অথচ এই বাচ্চাই আমার সদকায়ে যারিয়া হতে পারত।

মৃত্যুর পর মানুষের সকল আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ছাড়া তার মধ্যে একটি হল পূণ্যবাণ সন্তান সন্ততি।

_________________________________________________________

একবার একটা লেকচারে শুনেছিলাম।আমার স্মৃতিশক্তি খারাপ,মনে নেই কার লেকচার ছিল।বক্তব্য ছিল মুটামুটি এরকম।

“আপনার যখন কোন অসুখ হয় আপনি কি করেন? ডাক্তারের কাছে যান।ডাক্তার যা ঔষধ দেন তাই খান নাকি prescription পেয়ে গবেষণা শুরু করে দেন; কি ঔষধ দিল,এটা খেলে কি হয়,এটা কেন খাব, না খেলে কি হবে।যদি এমন করেন তাহলে ঔষধ সেবনের আগে এত গবেষণার কারনে ঔষধ খাওয়া না হলেও আপনার অসুখ যে মারাত্নক আকার ধারণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। “

এই ধরণের গাধামো যে আমরা কেউ করিনা সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।ডাক্তারের কথার উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করে ঔষধ খাই।অথচ দেখেন আমাদের ঈমান কি রকম যে আমরা আল্লাহর প্রতি এই ভরসা পাইনা।আমরা আল্লাহর বিধান মানার আগে যুক্তি তর্ক বাধিয়ে দেই।এই হল আমাদের ঈমানের অবস্থা,এই রকম মুসলিম আমরা।আমরা আল্লাহর চেয়ে একটা ডাক্তারের কথায় বেশি আস্থা রাখি।

মানুন আর নাই মানুন আমাদের স্বামীরাই আমাদের জান্নাত/জাহান্নাম।একথা আমার না ।আল্লাহর পয়গাম্বরের।

“যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, আপন লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে তাকে বলা হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।”

লক্ষ্য করে দেখুন এখানে কোথাও বলা নেই যে আপনাকে আয় উপার্জন করতে হবে।নারীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান হল নিজ গৃহ।

তবে হ্যাঁ কিছু কিছু পেশা আছে যেখানে নারীদের আবশ্যকতা আছে।

১।শিক্ষকতা(মেয়দেরকে দ্বীনী শিক্ষা দেয়া)

২।চিকিৎসা।

তবে এটা পুরটাই আমার ব্যক্তিগত মতামত।আমি অনেক ভেবে চিন্তেও এই দুটি পেশার বাহিরে নারীরা আর কি কাজ করতে পারে যা একান্ত প্রয়োজনীয় খুঁজে বের করতে পারিনি।

____________________________________________________

আমরা অনেকেই মনে করি নারী পুরুষের চেয়ে কম কিসে?অর্থাৎ আমরা প্রতিসম হতে চাই যা কখনো সম্ভব না।

গঠন,শক্তি,মানসিকতার দিক থেকে পুরুষ ও নারী আলাদা।তাদের অধিকার সমান কিন্তু প্রতিসম না। equal আর identical এই দুটি ব্যাপার আলাদা।এই প্রসঙ্গে যাকির নাইকের একটা কথা মনে পড়ে গেল-

“যদি পুরুষ আর নারী প্রতিসমই হয়ে থাকে তবে তাদের প্রতিযোগীতা গুলি ভিন্ন হয় কেন?

কেন তাদের জন্য আলাদা ক্রিকেট,ফুটবল,ভলিবল,সাঁতার প্রতিযোগীতার আয়জন করা হয়?”

যার দায়িত্ব যত বড়।তাঁর কর্তৃত্বও তত বড়।পুরুষদের দায়িত্ব অনেক বড় সেজন্য তাঁদেরকে আমাদের উপর কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে।এটা কোন মানুষ চাপিয়ে দেননি।আল্লাহ দিয়েছেন যিনি পুরুষের নারীর উভয়ের স্রষ্টা।আমরা ডাক্তারের উপর ভরসা করতে পারলে কি তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারিনা?

আমাদের প্রতিপালন,রক্ষনাবেক্ষন,সকল চাহিদা পুরণের দায়িত্ব যাদের তাদের কি আমরা প্রাপ্য সম্মান টুকুও দেবনা?

ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন, “আমি জাহান্নাম কয়েক বার দেখেছি, কিন্তু আজকের ন্যায় ভয়ানক দৃশ্য আর কোন দিন দেখিনি। তার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশী দেখেছি। তারা বলল, আল্লাহর রাসূল কেন? তিনি বললেন, তাদের না শুকরির কারণে। জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কি আল্লাহর না শুকরি করে? বললেন, না, তারা স্বামীর না শুকরি করে, তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। তুমি যদি তাদের কারো উপর যুগ-যুগ ধরে ইহসান কর, অতঃপর কোন দিন তোমার কাছে তার বাসনা পূণ না হলে সে বলবে, আজ পর্যন্ত তোমার কাছে কোন কল্যাণই পেলাম না।”

আমি কখনই হযরত আলী রাধি আল্লাহু আনহু এর মত স্বামী পাবার যোগ্যতা রাখিনা যদি না আমি হযরত ফাতিমা রাধি আল্লাহু আনহার মত স্ত্রী হই।

আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে চেঁচাচ্ছি।একবারও কি ভেবে দেখেছি আমরা আমাদের কর্তব্যগুলো পালন করেছি কিনা/করার মানসিকতা আছে কিনা।

“দুনিয়ার সব কিছুই মূল্যবান।তবে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সম্পদ হল একজন পূন্যবান নারী।”

Collected From

Sister

Shabnaj Rafnee Mithila

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *